• শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২:১৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্নের লক্ষ্যে আইন-শৃঙ্খলা সমন্বয় সংক্রান্ত মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত এসো আলোর সন্ধানে যুব সংগঠনের কার্যকরী পরিষদের মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কাপাসিয়ায় জামায়াতের নির্বাচনী অফিসে বিএনপির হামলা, ভাংচুর, দোকান লুটপাটের অভিযোগ, আহত ১০ গোলাপগঞ্জে সোসাইটি অব জাতীয় গণমাধ্যম কমিশনের উদ্যোগে অসহায় শীতার্ত লোকজনের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ নারায়ণগঞ্জে ঢাকা বিভাগীয় পর্যায়ে প্রতিভা অন্বেষণ প্রতিযোগিতা ২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আত্রাইয়ে জামায়াতে যোগ দিলো শতাধিক বিএনপির নেতাকর্মী নারায়ণগঞ্জ জেলা রোভার কর্তৃক রোভার স্কাউটস লিডার ও সিনিয়র রোভার মেট ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত হয়েছে গাজীপুরের টপ-নচ ড্রাইভিং স্কুলের প্রশিক্ষণে গ্রীন হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক ল্যাব এর এমডি ইসমাইল মোল্লা ১ম, স্ত্রী আফরোজা ২য় ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠাচ্ছে ১৬ দেশ ‘গণভোট নিয়ে জনভাবনা’ গোলটেবিল অনুষ্ঠিত হয়েছে
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
স্বাগতম আমাদের অনলাইন নিউজ পোটাল  "Sonalivor" সত্য প্রকাশে আপোষহীন....... সারা দেশ ব্যাপী সাংবাদিক নিয়োগ চলছে, হটলাইন - 01833-133149

আদেশ মানেন না হারুন; বিএডিসিতে প্রশাসনিক শৃঙ্খলার অবনতি

Reporter Name / ২৮ Time View
Update : বুধবার, ২৮ জানুয়ারী, ২০২৬

নিহাল খান, রাজশাহী প্রতিনিধি : বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) এর একটি সাম্প্রতিক বদলি আদেশ এখন কেবল প্রশাসনিক নথির বিষয় নয়; বরং এটি কর্পোরেশনের ভেতরে-বাইরে রাজনৈতিক প্রভাব, শ্রমিক রাজনীতি ও ক্ষমতার সমীকরণ নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

রাজশাহী থেকে বগুড়ায় বদলি হওয়া সত্ত্বেও মো. হারুন অর রশিদ যেভাবে বহাল তবিয়তেই রয়ে গেছেন, তাতে সংশ্লিষ্ট মহলের কাছে বিষয়টি স্পষ্ট, এটি শুধু বদলির গল্প নয়, এটি রাজনৈতিক দাপট ও দীর্ঘদিনের প্রভাব বলয়ের প্রতিফলন।

তিনি বিএডিসি শ্রমিক লীগের সভাপতি ছিলেন। এছাড়াও দীর্ঘদিন উপ-পরিচালকের দায়িত্ব পালনকালে নানা অনিয়ম দূর্নীতির সাথে জড়িয়ে পড়েন। তার বিরুদ্ধে এর আগেও দূর্নীতির সংবাদ প্রকাশ হয়েছে।

বিএডিসির সংস্থাপন বিভাগ থেকে জারিকৃত অফিস আদেশে সীড টেস্টার পদে কর্মরত মো. হারুন অর রশিদকে উপপরিচালক (পাটবীজ) দপ্তর, বিএডিসি রাজশাহী থেকে একই পদে উপপরিচালক (পাটবীজ) দপ্তর, বিএডিসি বগুড়ায় বদলি করা হয় এবং আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর বলেও উল্লেখ থাকে।

প্রশাসনিক দৃষ্টিতে এটি একটি নিয়মিত বদলি হলেও আদেশ জারির পরপরই কর্পোরেশনের অন্দরমহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, যদি বদলি কার্যকরই হয়, তাহলে কেন তাঁর সাংগঠনিক অবস্থান অটুট রইলো, কেন তিনি এখনও বিএডিসি শ্রমিক কর্মচারী লীগ (সিবিএ)-এর রাজশাহী জেলা শাখার সভাপতির দায়িত্বে বহাল।

বিএডিসির অভ্যন্তরীণ একাধিক অফিস সূত্র নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক থেকে জানায়, এই প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে মো. হারুন অর রশিদের রাজনৈতিক পরিচয়, মাঠপর্যায়ের দাপট ও দীর্ঘদিনের প্রভাব বলয়ের মধ্যে।

সূত্রগুলোর মতে, তিনি কেবল একজন কর্মচারী নন; তিনি রাজশাহী অঞ্চলের শ্রমিক রাজনীতির এমন এক অবস্থানে রয়েছেন, যেখানে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তও রাজনৈতিক বাস্তবতার সীমা অতিক্রম করতে পারে না।

এক অফিস সূত্রের ভাষায়, “বদলি কাগজে হয়, কিন্তু ক্ষমতা মাঠে। হারুন অর রশিদের ক্ষেত্রে সেটাই দেখা যাচ্ছে।”

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণে উঠে আসে আরও স্পষ্ট চিত্র। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে মো. হারুন অর রশিদ জাতীয় শ্রমিক লীগের ঘনিষ্ঠ দোসর হিসেবেই পরিচিত ছিলেন বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা।

একাধিক অফিস সূত্র জানায়, জাতীয় শ্রমিক লীগের মিছিল, সভা ও সমাবেশে তাঁকে নিয়মিত সামনের কাতারে থাকতে দেখা যেত। রাজনৈতিক কর্মসূচিতে এই দৃশ্যমান উপস্থিতি তাঁকে শাসকদলের শ্রমিক রাজনীতির একজন প্রভাবশালী মুখ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে, যার রেশ এখনও কাটেনি বলেই মনে করছেন অভিজ্ঞ মহল।

একজন শ্রমিক সংগঠক (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকারের সময় জাতীয় শ্রমিক লীগের যেকোনো বড় কর্মসূচিতে হারুন অর রশিদ মানেই সামনের সারি, এই বিষয়টি অস্বীকার করার সুযোগ নেই।”

আরেকটি সূত্র আরও সরাসরি মন্তব্য করে জানায়, “এই রাজনৈতিক পরিচয়ই আজও তাঁকে শক্ত অবস্থানে রেখেছে; বদলি হলেও তাঁকে সাংগঠনিকভাবে স্পর্শ করা হয়নি।”

সূত্রগুলো আরও জানায়, রাজশাহী জেলা শাখায় তাঁর বিকল্প নেতৃত্ব এখনো দৃশ্যমানভাবে গড়ে না ওঠায় তাঁকে সরানোর বিষয়ে কেন্দ্রীয় পর্যায়েও অনীহা ছিল। কেন্দ্রীয় শ্রমিক নেতৃত্বের সঙ্গে দীর্ঘদিনের যোগাযোগ, মাঠপর্যায়ে শ্রমিক-কর্মচারীদের ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং অতীতের রাজনৈতিক সক্রিয়তা, সব মিলিয়ে তাঁকে বাদ দিয়ে সংগঠন চালানোর ঝুঁকি নিতে চায়নি সংশ্লিষ্ট মহল।

রাজশাহী অঞ্চলের শ্রমিক-কর্মচারীদের মধ্যেও তাঁর অবস্থান এখনো শক্ত। কেউ কেউ তাঁকে শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের পরীক্ষিত নেতা হিসেবে দেখেন, আবার কেউ কেউ নীরবে স্বীকার করেন-তাঁর প্রভাব উপেক্ষা করা বাস্তবে কঠিন।

এক জ্যেষ্ঠ কর্মচারী (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, “তিনি যেটা বলেন, সেটার পেছনে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক ওজন থাকে, এটাই বাস্তবতা।”

বিএডিসির প্রশাসনিক অন্দরমহলেও এই প্রভাব অস্বীকার করার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন দায়িত্বশীল একাধিক কর্মকর্তা।

তাঁদের মতে, কিছু ব্যক্তির ক্ষেত্রে বদলি একটি কাগুজে সিদ্ধান্তে সীমাবদ্ধ থাকে; বাস্তব ব্যবস্থাপনায় তাঁদের অবস্থান হিসাবের বাইরে রাখা যায় না।

মো. হারুন অর রশিদের ক্ষেত্রেও ঠিক সেটাই ঘটেছে বলে মনে করছেন তাঁরা। সব মিলিয়ে চিত্রটি স্পষ্ট-প্রশাসনিকভাবে বদলি হলেও রাজনৈতিক বাস্তবতা, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার সক্রিয় ভূমিকা, জাতীয় শ্রমিক লীগের মিছিল-মিটিংয়ে সামনের কাতারে উপস্থিতি এবং শ্রমিক রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের দাপটের কারণেই মো. হারুন অর রশিদ আজও বহাল তবিয়তেই রয়েছেন। বদলেছে তাঁর কর্মস্থলের ঠিকানা, কিন্তু বদলায়নি তাঁর ক্ষমতার অবস্থান কিংবা প্রভাব বলয়।

১৬ বছর যাবৎ তিনি রাজশাহীতে কর্মরত। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (পাটবীজ) রাজশাহী জেলার উপ-পরিচালক হারুন অর রশীদ বলেন, আমি বিএডিসি শ্রমিক লীগের সভাপতি ছিলাম। তবে কোনো অন্যায় কাজে ছিলাম না। কথা বলতে বিএডিসি রাজশাহীর উপ-পরিচালককে (পাটবীজ) একাধিকবার ফোন দিলেও এইচ এস জাহিদুল ফেরদৌস ফোন রিসিভ করেননি। তাই তাঁর বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

More News Of This Category

Recent Comments

No comments to show.