• মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬, ০৫:০৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
সিলেটে পর্যটন সেবায় সাদাপাথর পরিবহনে যুক্ত হলো ৩টি অত্যাধুনিক বাস জাতীয় নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীককে বিজয়ী করতে ১১নং শরিফগঞ্জ ইউনিয়নে সভা অনুষ্ঠিত জোরালো জনসমর্থন পেতে আগাম নির্বাচন ডাকতে যাচ্ছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় ‘হ্যাঁ’ ভোট অপরিহার্য: আলী রীয়াজ লালমনিরহাটে ধানক্ষেত থেকে বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার জামায়াতে ইসলামী’র প্রতিনিধি দলের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠক বাংলাদেশ নিয়মভিত্তিক বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে সমর্থন করে : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আরইউজের আয়োজনে শুরু হলো মিডিয়া কাপ-২০২৬ অর্থনীতি-কূটনীতিসহ বিভিন্ন সেক্টরে বিদেশী আগ্রাসন বন্ধের দাবিতে ব্ল্যাক র‌্যালী ও বিক্ষোভ সমাবেশ রাঙামাটিতে গাছ বোঝাই মিনি পিকআপ খাদে পড়ে নিহত-২, আহত-১
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
স্বাগতম আমাদের অনলাইন নিউজ পোটাল  "Sonalivor" সত্য প্রকাশে আপোষহীন....... সারা দেশ ব্যাপী সাংবাদিক নিয়োগ চলছে, হটলাইন - 01833-133149

একটি পরিপূর্ণ নিম গাছ প্রায় ১০ টন এসির সমপরিমাণ ঠান্ডা রাখে তার চার পাশের বাতাসকে

Reporter Name / ২৪৭ Time View
Update : বুধবার, ১৩ নভেম্বর, ২০২৪

যাদব চন্দ্র রায়, বিভাগীয় বু্রো চীফ, রংপুর : নিম গাছ পরিবেশগতভাবে খুবই উপকারী। এটি খুব বেশি মাত্রার দূষণ সহ্য করতে পারে এবং শুষ্ক মৌসুমে পাতা পড়ে গেলেও সেগুলোতে তাড়াতাড়ি নতুন পাতা চলে আসে।

নিম গাছের পাতা তুলনামূলকভাবে বেশি পরিমাণে সীসা শোষণ করে। ধূলিকণা, কার্বন ডাই-অক্সাইড, সালফার অক্সাইড এবং নাইট্রোজেনের মতো দূষক শোষণ করার ক্ষমতা নিম গাছের রয়েছে।

১৯৯৬ সালে আন্তর্জাতিকভাবে একটি সমীক্ষা ইঙ্গিত দেয় যে নিম গাছ শিল্প এলাকায় ও শহুরে দূষণ দূর করার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত প্রজাতিগুলির মধ্যে একটি এবং এটি পরিচিত হট স্পটগুলিতে সবুজ বেল্টের মত কাজ কর। নিমের কার্বন ডাই-অক্সাইড ফিক্সেশন করার ক্ষমতা অন্যান্য গাছের তুলনায় তুলনামূলকভাবে বেশি। এটি প্রতি সেকেন্ডে কার্বন ডাই-অক্সাইডের ১৪ টি মাইক্রোমোল (প্রতি বর্গ মিটার) ঠিক করতে পারে।

নিম গাছের পত্র পৃষ্ট সর্বাধিক কার্বন ডাই-অক্সাইড ফিক্স করার জন্য একটি ভাল বিকল্প হিসেবে কাজ করে এবং অন্যান্য দূষিত উপাদানগুলির বিরুদ্ধে একটি ঢাল প্রদান করে বিশেষ করে সালফার ডাই-অক্সাইড।

একটি পরিপূর্ণ নিম গাছ প্রায় ১০ টন এসির সমপরিমাণ ঠান্ডা রাখে তার চার পাশের বাতাসকে। নিম আমাদের দেশীয় গাছ, আবহাওয়া উপযোগী এবং যে কোনো ধরণের মাটিতে জন্মে। নিম গাছ দ্রুত বর্ধণশীল, পানির স্তর ধরে রাখে, মাটির ক্ষয় ও মরুময়তা রোধ করে।

নিমের তেল মানুষ, গরু ও পশুপাখির উকুননাশক এবং চর্মরোগ নিরোধক। নিমের তেল, খৈল ও পাতা প্রাকৃতিক কীট নিবারক ও সার হিসাবে ব্যবহৃত হয়। নিমের কাঠ অধিক মূল্যবান, উন্নত মানের, স্বাস্ব্যকর ও পরিবেশসম্মত এবং এই কাঠ দিয়ে ঘরবাড়ি ও আসবাবপত্র তৈরি করা যায় যা উঁই, ঘূণ আ অন্য পোকায় নষ্ট করে না। নিম গাছ অন্যান্য গাছের চেয়ে বেশি অর্থকরি এবং পরিচর্যায় তেমন খরচ নেই।

নিম বাড়ির আঙিনা, রাস্তাঘাট, হাট-বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালতসহ সর্বত্র লাগানো যায়। নিম গাছের গন্ধে আশপাশের ফসলেও কীট-পতঙ্গ আসে না ! তাই ফসলের মাঠেও নিম গাছ লাগানো উপকারী।

তুলনামূলকভাবে নিমের অর্থনৈতিক গুরুত্ব অন্যান্য কাঠ, ফল ও ঔষধী গাছ থেকে অনেক বেশি। নিমের পাতা হাম, বসন্ত, ঘা, খুজলি, পাঁচড়া ও চুলকানিতে ব্যবহার হয়। নিম গাছে রোগ-ব্যাধি হয় না এবং এই গাছ গরু-ছাগলে খায় না। এই গাছ জীববৈচিত্র্য রক্ষা করে, পাখিরা এই গাছের ফল খায়।

নিম জন্মনিয়ন্ত্রণ, মশক নিধন, কৃমিনাশ, অজীর্ণ ও ডায়াবেটিস রোগে ব্যবহার হয়। নিমের শুকনো পাতা মূল্যবান কাপড়-চোপড়, বীজ ও ফসল সংরক্ষণে এবং পোকা দমনে ব্যবহার করা হয়।

নিমের কসমেটিকস স্বাস্থ্য উপযোগী এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন। নিমের শিকড়, ছাল ডাল-পালা, পাতা, ফুল, ফল এবং বীজসহ সকল কিছুই ব্যবহার উপযোগী এমনকী নিমের ছাইও। দাঁত ও দাঁতের মাড়ি সুস্থ রাখার জন্য, দাঁতের মাজন ও পেস্ট তৈরিতে নিম ব্যবহার হয়। নিমের তেল মাথা ঠান্ডা রাখে, টাক মাথায় চুল গজায় এবং চুল পড়া বন্ধ করে।

নিম সার ও কীটনাশক, মানুষ ও অন্যান্য স্তন্যপায়ী প্রাণী এবং উপকারী কীটপতঙ্গের জন্যে ক্ষতিকর নয়। নিম কুষ্ঠ ও অজীর্ণ রোগে উপকারী। ইহা এন্টিসেপটিক এবং যৌন রোগ নিরামক। নিম একটি ধনন্তরী মহৌষধ এবং সর্বোপরি যে বাড়িতে নিম গাছ থাকে সে বাড়ি সকল প্রকার রোগ-ব্যাধিমুক্ত থাকে।

নিম গাছকে বিজ্ঞানীরা আগামী শতকের মহামূল্যবান বৃক্ষ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন এবং নিম গাছের তৈরি ওষুধ রাসায়নিক ওষূধের চেয়ে বেশি উপকারে আসবে বলে উল্লেখ করেছেন।

বাংলাদেশের মতো দরিদ্র দেশে নিম অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে ১০ বছর বয়সের দু‘টি নিম গাছের পাতা, ফল, তেল, ও ডালপালা বিক্রি করে সে আয় থেকে ৫ জনের একটি পরিবারের সারা বছরের মৌলিক চাহিদা পূরণ সম্ভব। সামনে গাছ লাগানোর মৌসুম শুরু হবে। সবার বাড়ির খালি জায়গায় রাস্তার ধারে যার যার পছন্দ অনুযায়ী গাছ লাগাতে পারি।আসুন গাছ লাগাই, অক্সিজেনের ফাক্টরী গড়ে তুলি।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

More News Of This Category

Recent Comments

No comments to show.