• মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬, ০৫:২৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
সিলেটে পর্যটন সেবায় সাদাপাথর পরিবহনে যুক্ত হলো ৩টি অত্যাধুনিক বাস জাতীয় নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীককে বিজয়ী করতে ১১নং শরিফগঞ্জ ইউনিয়নে সভা অনুষ্ঠিত জোরালো জনসমর্থন পেতে আগাম নির্বাচন ডাকতে যাচ্ছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় ‘হ্যাঁ’ ভোট অপরিহার্য: আলী রীয়াজ লালমনিরহাটে ধানক্ষেত থেকে বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার জামায়াতে ইসলামী’র প্রতিনিধি দলের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠক বাংলাদেশ নিয়মভিত্তিক বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে সমর্থন করে : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আরইউজের আয়োজনে শুরু হলো মিডিয়া কাপ-২০২৬ অর্থনীতি-কূটনীতিসহ বিভিন্ন সেক্টরে বিদেশী আগ্রাসন বন্ধের দাবিতে ব্ল্যাক র‌্যালী ও বিক্ষোভ সমাবেশ রাঙামাটিতে গাছ বোঝাই মিনি পিকআপ খাদে পড়ে নিহত-২, আহত-১
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
স্বাগতম আমাদের অনলাইন নিউজ পোটাল  "Sonalivor" সত্য প্রকাশে আপোষহীন....... সারা দেশ ব্যাপী সাংবাদিক নিয়োগ চলছে, হটলাইন - 01833-133149

মার্কিন ভিসা বন্ডের প্রেক্ষাপটে ব্যবসায়ীদের ভ্রমণ সহজ করার আহ্বান বাংলাদেশের

Reporter Name / ৪৪ Time View
Update : শনিবার, ১০ জানুয়ারী, ২০২৬

ঢাকা, ১০ জানুয়ারি, ২০২৬ : সম্প্রতি আরোপিত মার্কিন “ভিসা বন্ড” ব্যবস্থার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যাতায়াত সহজ করার অনুরোধ জানিয়েছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান।

ওয়াশিংটন ডিসিতে শুক্রবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের রাজনীতি বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি অ্যালিসন হুকারের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ অনুরোধ জানান।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, সম্ভব হলে বি-১ (স্বল্পমেয়াদী ব্যবসা) ভিসার ক্ষেত্রে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের এই “ভিসা বন্ড” থেকে অব্যাহতি দিতে বিশেষ অনুরোধ করেন ড. খলিলুর রহমান।

জবাবে অ্যালিসন হুকার বিষয়টি আমলে নেন এবং মার্কিন সরকার এই পদক্ষেপটি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে বলে আশ্বাস দেন।

ভবিষ্যতে যদি পর্যটকদের নির্ধারিত সময়ের চেয়ে অতিরিক্ত অবস্থানের (ওভারস্টে) হার উল্লেখযোগ্যহারে কমে আসে, তবে যুক্তরাষ্ট্র এই বন্ডের প্রয়োজনীয়তা পুনর্বিবেচনা করতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।

এছাড়া নথিপত্রহীন বাংলাদেশিদের স্বদেশে ফিরিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে ঢাকার আন্তরিক সহযোগিতার ভূয়সী প্রশংসা করেন হুকার।

বৈঠকে বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক, রোহিঙ্গা সংকটসহ আঞ্চলিক গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

ড. খলিলুর রহমান আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি ও আয়োজন সম্পর্কে হুকারকে অবহিত করেন। একইসঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদে নির্বাচনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

হুকার জানান, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে যুক্তরাষ্ট্রের জোরালো সমর্থন অব্যাহত থাকবে এবং তারা আগামী ফেব্রুয়ারিতে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন প্রত্যাশা করেন।

ড. খলিলুর রহমান যুক্তরাষ্ট্র থেকে কৃষিপণ্য আমদানি উল্লেখযোগ্যহারে বাড়ার ফলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধির সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন।

তিনি বাংলাদেশে আশ্রিত বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রতি নিরবচ্ছিন্ন সহায়তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

রোহিঙ্গাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্র সবচেয়ে বড় দাতা দেশ উল্লেখ করে তিনি এই সহায়তা ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখারও অনুরোধ জানান।

বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ যে বড় দায়িত্ব বহন করছে, তার জন্য ধন্যবাদ জানান হুকার।

তিনি এই সংকটের সমাধান এবং দায়ভার সবার মধ্যে ভাগ করে নেয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশে থাকাকালে রোহিঙ্গাদের জীবনমানের সুযোগ বাড়ানোরও অনুরোধ জানান তিনি।

জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের জন্য ডিএফসি অর্থায়নে প্রবেশাধিকার এবং দেশের সেমিকন্ডাক্টর উন্নয়নে বিশেষ আর্থিক সহায়তা দেয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি অনুরোধ জানান।

আন্ডার সেক্রেটারি হুকার প্রস্তাবগুলো গুরুত্বের সাথে বিবেচনার আশ্বাস দেন।

এছাড়া, গাজায় মোতায়েন হতে যাওয়া ‘আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা বাহিনী’র অংশ হতে বাংলাদেশের নীতিগত আগ্রহের কথা জানান জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা।

হুকার বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এই বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী।

এদিকে, পৃথক এক বৈঠকে মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে ড. খলিলুর রহমান দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। এতে বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, রোহিঙ্গা সংকট, ভিসা বন্ড ও বাণিজ্য-বিনিয়োগসহ আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পায়।

বাংলাদেশে নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের শপথ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগ দেন ড. খলিলুর রহমান। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর আয়োজিত এ শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবস্থাপনা ও সম্পদবিষয়ক উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইকেল জে রিগাস।

অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত, দূতাবাসের কর্মকর্তা, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ও সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত এবং শীর্ষ ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় মার্কিন উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের উজ্জ্বল গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের পথে সহায়তা করে যাবে। আমি নির্বাচনের ফলাফলের অপেক্ষায় আছি এবং নবনির্বাচিত সরকারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এগিয়ে নিতে কাজ করতে চাই।”

সব অনুষ্ঠানে দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে ছিলেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

More News Of This Category

Recent Comments

No comments to show.