
আলমগীর মানিক, রাঙামাটি : পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়ন ও শান্তি প্রতিষ্ঠার ইতিহাসে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নাম এক অনিবার্য অধ্যায়।
তাঁর শাসনামলের একটি উল্লেখযোগ্য সময় তিনি ব্যয় করেছিলেন পার্বত্য অঞ্চলের সমস্যা বোঝা, উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নে।
গবেষণা করলে দেখা যায়, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের যে ভিত্তি শহীদ জিয়া নির্মাণ করেছিলেন, তার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূতিকাগার ছিল এই পার্বত্য অঞ্চল।
পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়ন ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, তা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন তাঁর উপদেষ্টা সুবিমল দেওয়ান। সেই পথ ধরেই পাহাড়ের মানুষের আস্থা ও প্রত্যাশার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন এডভোকেট দীপেন দেওয়ান।
এই ঐতিহাসিক যাত্রায় শহীদ জিয়ার আস্থাভাজন উপদেষ্টা হিসেবে যিনি নিরবচ্ছিন্নভাবে যুক্ত ছিলেন, তিনি হলেন প্রয়াত সমাজকর্মী ও রাজনীতিক সুবিমল দেওয়ান। ১৯৮০ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ট্রাইবাল অ্যাফেয়ার্স বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর সুবিমল দেওয়ান পার্বত্য জনগোষ্ঠী, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, প্রতিবন্ধী ও সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের উন্নয়নে এক নিবেদিতপ্রাণ ভূমিকা পালন করেন।
সুবিমল দেওয়ান বিশ্বাস করতেন “পাহাড়ের সমস্যা বন্দুক দিয়ে নয়, বিশ্বাস ও উন্নয়ন দিয়ে সমাধান করতে হবে।” এই নীতিগত অবস্থান থেকেই তিনি পাহাড়ে শুধু সামরিক সমাধানের বিপক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেন এবং সরকার ও পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মধ্যে আস্থার সেতুবন্ধন তৈরিতে কাজ করেন।
তার পরামর্শ ও দিকনির্দেশনায় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান পাহাড়ে উন্নয়নমুখী নীতি গ্রহণ করেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন, স্বাস্থ্যসেবার বিস্তার, পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি, স্থানীয় নেতৃত্বকে প্রশাসনে অন্তর্ভুক্ত করা, পাহাড়ি নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সংলাপ, সেনা ও সাধারণ জনগণের দূরত্ব কমানো এবং কঠোরতার পরিবর্তে মানবিক আচরণ নিশ্চিত করার মতো যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেয়া হয়। যদিও সে সময় পূর্ণ শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়নি। তবে এই দর্শনই পরবর্তীতে ১৯৯৭ সালের পার্বত্য শান্তি চুক্তির ভিত্তি তৈরি করে।
পার্বত্য অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ, শিক্ষা, চিকিৎসা, বিদ্যুৎ সংযোগ, স্কুল-কলেজ, মসজিদ-মন্দির, ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণসহ সামগ্রিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে সুবিমল দেওয়ান তিন পার্বত্য জেলার আনাচে-কানাচে ছুটে বেড়িয়েছেন।
এই উন্নয়ন ও রাষ্ট্রচিন্তার আরেক প্রত্যক্ষ সাক্ষী ও সহযাত্রী হলেন তাঁরই সন্তান; এডভোকেট দীপেন দেওয়ান। পিতার সঙ্গে ছায়াসঙ্গী হিসেবে পাহাড়ের সমস্যা, সম্ভাবনা ও সমাধানের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেন তিনি। শহীদ জিয়া ছিলেন তাঁর রাজনৈতিক আইকন, আর সুবিমল দেওয়ান ছিলেন তাঁর শিক্ষক।
১৯৬৩ সালের ৮ জুন রাঙামাটিতে জন্মগ্রহণকারী দীপেন দেওয়ান রাঙামাটি সরকারি কলেজ থেকে পড়াশোনা শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে এলএলবি ও এলএলএম সম্পন্ন করেন।
৭ম বিসিএসের মাধ্যমে জুডিশিয়াল সার্ভিসে যোগ দিয়ে দীর্ঘ ১৯ বছরের কর্মজীবনে তিনি গড়ে তুলেছেন একটি “নো কম্প্রোমাইজ ইমেজ”-যেখানে লোভ, চাপ বা ক্ষমতার সঙ্গে আপোষের কোনো নজির নেই।
১/১১-এর কঠিন সময়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আহ্বানে সাড়া দিয়ে তিনি সম্মানজনক বিচার বিভাগীয় চাকরি ছেড়ে রাঙামাটি জেলা বিএনপির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দলের ইতিহাসের সবচেয়ে দুর্দিনে মাঠে থেকে নির্যাতন, মামলা ও জুলুম মোকাবিলা করে তৃণমূল থেকে দলকে সুসংগঠিত করেন। সেই ধারাবাহিকতায় তিনি সফলভাবে জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন এবং বর্তমানে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-ধর্মবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
রাঙামাটি-২৯৯ সংসদীয় আসনে এডভোকেট দীপেন দেওয়ান আজ একজন বহুল কাঙ্ক্ষিত প্রার্থী। কর্মী-সমর্থক ও সাধারণ মানুষের কাছে তিনি সততা, ঐতিহ্য, আস্থা ও নির্ভরতার প্রতীক।
শহীদ জিয়া ও সুবিমল দেওয়ানের শান্তি ও উন্নয়নের দর্শনের উত্তরাধিকার বহন করে তিনি পাহাড়ে সুষম উন্নয়ন, সু-শাসন, গুণগত শিক্ষা ও চিকিৎসা, দুর্নীতিমুক্ত উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
তিনি মনে করেন, পাহাড়ের উন্নয়নকে জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনার অবিচ্ছেদ্য অংশ না করলে প্রকৃত অগ্রগতি সম্ভব নয়। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উৎপাদনমুখী শিল্প স্থাপন এবং প্রশাসন ও জনগণের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক গড়ে তোলাই তার ভবিষ্যৎ রাজনীতির মূল লক্ষ্য।
শহীদ জিয়া ও সুবিমল দেওয়ানের হাতে প্রজ্বলিত যে শান্তি ও উন্নয়নের মশাল; আজ তা বহন করছেন দীপেন দেওয়ান। পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষ সেই মশালের আলোতেই দেখতে চায় আগামীর নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও উন্নত পাহাড়।
সম্পাদক :
এস এম ইকবাল হোসেন
প্রধান কার্যালয় : ক/৫২, প্রগতি স্বরণী,
ভাটারা, ঢাকা-১২১৯ ।
কর্পোরেট অফিস : এফ-২২৮/১, বিশ্বাস ভিলা, উত্তর ছায়াবিথী, জয়দেবপুর,গাজীপুর-১৭০০, গাজীপুর মহানগর।
মোবাইল : +৮৮০ ১৭১১
০৫১৪৬৪ , +880 1833-133149
ই-মেইল: sonalivor.net@gmail.com, lnewsbd.mail@gmail.com