সফিকুল ইসলাম, নিজস্ব প্রতিনিধি, পটুয়াখালী : পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও প্রবীণ নেতা আবদুল মোতালেব হাওলাদার দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ফের আলোচনায় এসেছেন। দলের সংকীর্ণ স্বার্থের উর্ধ্বে উঠে দেশের বৃহত্তর শান্তি এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার পক্ষে তার মানবিক অবস্থান সুধীমহলের প্রশংসা কুড়াচ্ছে।
একুশ শতকের উদার রাজনীতি: খালেদা জিয়ার পাশে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মোতালেব হাওলাদার।
বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আবদুল মোতালেব হাওলাদার যিনি প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন না, তার প্রমাণ পাওয়া যায় ২০২৩ সালের ১লা অক্টোবর।
তৎকালীন কঠিন রাজনৈতিক পরিস্থিতির মাঝেও তিনি নিজের ফেসবুক আইডিতে এক সাহসী মানবিক আবেদন জানিয়েছিলেন।
তিনি লিখেছিলেন : আইন সংশোধন করে হলেও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ করে দেয়া হউক।
আওয়ামী লীগের একজন প্রভাবশালী নেতা হয়েও বিরোধী দলীয় নেত্রীর জীবন বাঁচাতে তার সেই মানবিক অবস্থান সে সময় সারা দেশে নজির সৃষ্টি করেছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই আহ্বানটি ছিল তার স্বচ্ছ ও উদার রাজনৈতিক চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ।
বর্তমান রাজনৈতিক সংকটে সময়োপযোগী বার্তা : তদানীন্তন সময়ে বেগম জিয়ার চিকিৎসার পক্ষে দাঁড়িয়ে তিনি যে উদারতার পরিচয় দিয়েছিলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতেও তিনি একই ধরণের অবস্থান নিয়েছেন। সম্প্রতি এক ফেসবুক পোস্টে তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান ও বিএনপির প্রতি একটি বিশেষ পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, দেশে রাজনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখা এবং বিএনপির নিজস্ব নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থেই আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ দেয়া উচিত।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মোতালেব হাওলাদার তার পোস্টে উল্লেখ করেন, যদি বিএনপি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির পথ তৈরি না করে, তবে তাদের তথাকথিত ‘প্রতিপক্ষ বন্ধুরা’ই একসময় বিএনপির জন্য বড় বিপদ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
সব মহলে গ্রহণযোগ্যতা : একদিকে বিএনপি নেত্রীর চিকিৎসার জন্য আইন সংশোধনের দাবি, অন্যদিকে দেশের স্থিতিশীলতার জন্য রাজনৈতিক সহাবস্থানের আহ্বান, এই দুই ঘটনা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মোতালেব হাওলাদারকে একজন ‘ব্যতিক্রমী রাজনৈতিক অভিভাবক’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
স্থানীয়রা বলছেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মোতালেব হাওলাদার সব সময় ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থের চেয়ে দেশ ও মানুষের শান্তিকে বড় করে দেখেন। তার এই অবস্থান কেবল আওয়ামী লীগ নয়, বরং দেশের সামগ্রিক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার একটি সৎ প্রচেষ্টা।
রাজনৈতিক প্রতিহিংসার এই যুগে বাউফল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মোতালেব হাওলাদারের মতো নেতার উদার মানসিকতা দেশের তরুণ প্রজন্মের রাজনীতিবিদদের জন্য একটি বড় শিক্ষা হতে পারে। তিনি প্রমাণ করেছেন যে, ভিন্ন মত থাকলেও একে অপরের বিপদে মানবিক হওয়া এবং দেশের স্বার্থে পরামর্শ দেওয়া একজন প্রকৃত নেতার কাজ।
You must be logged in to post a comment.