নিজস্ব প্রতিনিধি, সিদ্ধিরগঞ্জ : প্রায় দুই ডজন মামলার আসামি প্রতারক কামাল প্রধান অবশেষে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার জালকুড়ি এলাকা থেকে গ্রেফতার হয়েছে।
২৪ জানুয়ারি রাত ১১ টায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এস আই মামুন সঙ্গীয় ফোর্স সহ সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে জালকুড়ি মাজার রোডের জাহাঙ্গীর আলমের বাড়ি থেকে তাকে আটক করে।
সে দীর্ঘদিন যাবত গ্রেফতার এড়াতে ভাড়া বাসার তৃতীয় তলায় আত্মগোপনে ছিলো।
পুলিশ জানায়, বন্দর থানার প্রতারণা ও জাল জালিয়াতি মামলায় ওয়ারেন্ট ছিলো কামালের বিরুদ্ধে। রাতেই আসামীকে বন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এদিকে কামালের গ্রেফতারের খবরে নারায়ণগঞ্জবাসীর মধ্যে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেও এখনো ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে তার বাহিনীর প্রতারকচক্ররা।
জানা যায়, বন্দর থানার নবীগঞ্জ বাগবাড়ি এলাকার আবুল প্রধানের ছেলে কামাল প্রধানের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ, ফতুল্লা, সিদ্ধিরগঞ্জ, সোনারগাঁও, বন্দর থানা ও বিভিন্ন আদালতে প্রায় দুই ডজনের উপরে মামলা রয়েছে। জাল দলিল সৃজন, ভুয়া স্টাম্প ও অঙ্গীকারনামা তৈরি, ভুমিদস্যুতা, সন্ত্রাসী কার্যকলাপ, চেক জালিয়াতি, বিদেশে নেয়ার কথা বলে টাকা আত্মসাত, চাঁদাবাজী, নারী কেলেঙ্কারি, মানব পাচার, সহ খুনের অভিযোগ রয়েছে।
একজন মামলাবাজ হিসেবেও যথেষ্ট পরিচিতি রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী ও নিরীহ মানুষকে মিথ্যা মামলা মোকদ্দমা দিয়ে সর্বশান্ত করে দিয়েছে এই প্রতারক। কেউ প্রতিবাদ বা আইনি ব্যবস্থা নিলেই তাকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়ে মানহানি করে। এক কথায় ফেক আইডির মাষ্টার বলা যায় তাকে। বেশ কয়েকবার কামাল কে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছিল তার অপকর্মের জন্য। কয়েকটি মামলায় সাজাও হয়। অনেকবার জেল খেটে জামিনে বেরিয়ে আসে এবং আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠে কামাল।
সম্প্রতি বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে কুটুক্তি করে ফেসবুকে নানা ধরণের অশ্লীল কথাবার্তা বলে ব্যঙ্গ করার মাধ্যমে অপপ্রচার চালায়।
এছাড়াও নারায়ণগঞ্জ ৫ আসনের বিএনপি দলীয় প্রার্থী এডভোকেট আবুল কালাম ও তার ছেলে আবু কাওসার আশাকে নিয়ে দীর্ঘদিন যাবত সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ আখ্যা দিয়ে ফেসবুকে অপপ্রচার চালিয়ে আসছিলো।
জেলা পুলিশের নির্দেশে শনিবার রাতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে কামাল প্রধানকে আটক করে।
এসময় কামালের সাথে থাকা অন্যান্য প্রতারকরা পালিয়ে যায়। পরে বন্দর থানার এস আই বাদশা আসামিকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা থেকে বুঝে নেয়।
কামাল নিজেকে নারায়ণগঞ্জ মহানগর এলডিপির সভাপতি পরিচয় দিয়ে আকাম কুকাম করে বেড়াতো।
এবিষয়ে এলডিপির কেন্দ্রীয় কমিটি গতকাল রোববার ২৫ জানুয়ারি তাদের এলডিপি মিডিয়া সেল নামে ভেরিভাইড পেইজে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানান নারায়ণগঞ্জ মহানগর কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ এবং বিলুপ্ত করা হয়েছে অনেক আগেই বরং এখন যারা পরিচয় দিয়ে ফায়দা লুটছে তারা টাউট বাটপার প্রতারকচক্র।
প্রায় ২২ মামলার আসামি কামাল প্রধানের অন্যতম সহযোগী ভেজাইল্যা সুলতান মাহমুদ, শহীদুল ইসলাম রিপন, জসিম উদ্দিন মুন্সি, রফিক শেখ, আলমগীর, হাফিজ, শরীফ, মাসুম মোল্লা, অন্তরা ইসলাম নিপা, রুপালী আক্তার, নাছিমা বেগম, জলি বেগমসহ আরো কয়েকজন প্রতারক সংঘবদ্ধভাবে টার্গেট করে বিভিন্ন মানুষকে ব্লাকমেইল করে টাকা পয়সা হাতিয়ে নিচ্ছে এবং কোন ধরণের সুবিধা করতে না পারলে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করে।
ওরাই মামলার বাদী এবং স্বাক্ষী বনে যায়। এদের বিরুদ্ধেও মানব পাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।
একাধিক মামলা ও জিডি রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। বন্দর থানা পুলিশ জানায়, একাধিক মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি কামাল প্রধানকে প্রতারনা ও জাল জালিয়াতি ৫২২/২৫ সিআর মামলায় ওয়ারেন্ট বলে তাকে নারায়ণগঞ্জ আদালতে চালান করা হবে।
এদিকে কামালের গ্রেফতারের পর প্রতারকের অন্যান্য সদস্যদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে বন্দরবাসী।