এমরান মাহমুদ প্রত্যয়, নওগাঁ সংবাদদাতা : নওগাঁর আত্রাই উপজেলার আহসানগঞ্জ ইউনিয়নের রাহেলা বেগম (৬৫) দীর্ঘ ২৮ বছর একটি শিশু হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজা প্রাপ্ত হয়ে গত কয়েক দিন আগে জীবনের শেষ প্রান্তে মুক্তি পেয়েছেন।
রাহেলা বেগম থাকছেন বড় বোন সাহেলা বেগমের দীঘা গ্রামের বাড়ীতে। বিভিন্ন মিডিয়ায় সংবাদ প্রাকাশের পর ইউএনও’র নজরে আসে যাবজ্জীবন সাজা প্রাপ্ত সদ্য মুক্তি পাওয়া রাহেলার অসহায়ত্ব।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) অসহায় অচল প্রায় রাহেলা বেগমের বাড়ীতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মো.আলাউল ইসলাম মানবতার হাত বাড়িয়ে ছুটে আসেন হুইলচেয়ার, খাবার ও নগদ অর্থ নিয়ে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রতিবন্ধী বিষয়ক কর্মকর্তা পিএম কামরুজ্জামান, প্রকল্প কর্মকর্তা রুকুনুজ্জামান, সার্টিফিকেট সহকারী মো. ইমদাদুল হক, সঞ্জয় কুমারসহ মহল্লার জনসাধারণ।
এ সময় রাহেলার বোন জামাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানান, রাহেলা আমার (শালী) বোনের মত। এ অবস্থায় তাঁকে আমরা ফেলতে পারছি না। তাঁকে নিয়ে আমারা খুব দুঃচিন্তায় রয়েছি। তাঁর বসবাসের জন্য একটি ঘর ও সরকারি ভাতা ব্যবস্থা হলে ভালো হয়।
স্থানীয়রা জানান, রাহেলার সংসার সন্তান বলে কিছু নেই। এই পৃথিবীতে তাঁর বোন ছাড়া আর কেউ নেই। অসহায় রাহেলা ও গ্রামবাসীর কথা শুনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মো. আলাউল ইসলাম, সরকারি সহায়তা হিসেবে তাকে ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার আশ্বাস দেন।
ইউপি চেয়ারম্যান এস এম মুঞ্জুরুল আলম জানান, বৃদ্ধ রাহেলাকে সরকার থেকে সব ধরণের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন ইউএনও। ইউনিয়ন পরিষদ থেকেও তাকে প্রয়োজনীয় সকল সহায়তা দেয়া হবে।