আলমগীর মানিক, রাঙামাটি : রাঙামাটি-২৯৯ আসনে সকাল থেকেই উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। জেলার বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে ভোর থেকেই ভোটারদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত কোথাও বড় ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি; শান্তিপূর্ণভাবেই ভোটগ্রহণ চলছে।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে, যা চলবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।
সকালের নির্ধারিত সময়ে শুরু থেকেই জেলার বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে। সকাল সাড়ে ৯টায় রাঙামাটি সরকারি কলেজ ভোটকেন্দ্রে ভোট প্রদান করেন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করা বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান।
ভোট প্রদান শেষে তিনি উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলাপচারিতায় শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে কেন্দ্রে এসে ভোট দিচ্ছেন এবং শেষ পর্যন্ত সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে তিনি আশাবাদী।
নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, রাঙামাটির ১০টি উপজেলার দুটি পৌরসভা ও ৫০টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৯ হাজার ২৬৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৬৩ হাজার ৪১০ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৪৫ হাজার ৮৫৫ জন এবং হিজড়া ভোটার রয়েছেন ২ জন।
এ আসনে মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে ২১৩টি, যার মধ্যে ২০টি কেন্দ্র দুর্গম এলাকায় অবস্থিত।
এছাড়া একটি পোস্টাল ভোট কেন্দ্র রয়েছে। নির্বাচনকে ঘিরে ১৪৯টি কেন্দ্রকে অতি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
এবারের নির্বাচনে অনুমোদিত পোস্টাল ভোটের সংখ্যা ৫ হাজার ৩৬০টি। নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও নিরাপদ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় ১০ হাজার সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।
এদিকে, হাতপাখার প্রার্থী জসিম উদ্দিন ভোট শান্তিপূর্ন ও উৎসবমূখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে জানালেও কোদাল প্রতিকের একমাত্র নারী প্রার্থী জুই চাকমা অভিযোগ করেছেন, তার লোকজনকে জেলার বিভিন্ন দূর্গম এলাকাগুলোতে বাধা দেয়া হচ্ছে; সুষ্ঠ নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠ নির্বাচন দিতে ব্যর্থ হয়েছে।
অপরদিকে একমাত্র স্বতন্ত্র প্রার্থী ফুটবল প্রতিকের পহেল চাকমাও অভিযোগ করেছেন তার সমর্থক ভোটারদের হুমকি দেয়া হচ্ছে জানিয়ে আমি সর্বোচ্চ পর্যায়ে অভিযোগ জানিয়েছি। আমি খুব সন্দিহান ঝুকিপূর্ন কেন্দ্রগুলোতে ভোট ডাকাতি হচ্ছে।
অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সকাল থেকেই ভোটকেন্দ্রগুলোর সামনে বালির বস্তা দিয়ে তৈরি বাংকারে সশস্ত্র অবস্থায় সেনাবাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।
রাঙামাটির কোনো কেন্দ্রে অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রেখে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। জেলার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
রাঙামাটি-২৯৯ আসনে এবারের নির্বাচনে মোট ৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন।
তারা হলেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের রিকশা প্রতীকের প্রার্থী মুহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিক, বাংলাদেশ বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির কোদাল প্রতীকের প্রার্থী জুঁই চাকমা, জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী অশোক তালুকদার, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মো. জসিম উদ্দীন, স্বতন্ত্র প্রার্থী ফুটবল প্রতীকের পহেল চাকমা এবং গণ অধিকার পরিষদের ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী এম এ আবুল বাশার।
উল্লেখযোগ্যভাবে, জামায়াতের প্রার্থী তার মনোনয়ন প্রত্যাহার করে ১০ দলীয় জোটভুক্ত বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আবু বকর সিদ্দিককে সমর্থন দিয়েছেন।
সার্বিকভাবে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে এবং ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি নির্বাচনকে প্রাণবন্তকরে তুলেছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা।
You must be logged in to post a comment.